ভিজিএফের কার্ড ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে আহত | Chandina Protidin

ভিজিএফের কার্ড ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে আহত

নাটোরের লালপুরে সরকারিভাবে বরাদ্দ করা ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে আহত করেছে এমপির সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার গোপালপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজার ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় নাজিম আলী সরদার নামে এজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার নাজিম আলী সরদার পানঘাটা গ্রামের খোরশেদ সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা জমা দিতে উপজেলা পিআইও অফিসে যান কদমচিলান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান সেলিম রেজা। পিআইও আব্দুর রাজ্জাক দলীয় ভাগের কার্ডগুলো স্থানীয় এমপি সমর্থিত ব্যক্তিদের সাথে সমন্বয় করে তালিকা জমা দেওয়ার জন্য বলেন। এনিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে দু’জনে উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতির পর্যায়ে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা দু’জনকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন, দেলোয়ার, সজলসহ কয়েকজন। তারা চেয়ারম্যানকে খোঁজ করতে থাকে ও এমপির নির্দেশ অমান্য করায় হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ৬ টার দিকে চেয়ারম্যান সেলিম রেজা উপজেলা থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার পিছু নেয় ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন, দেলোয়ার, সজলসহ কয়েকজন। পরে গোপালপুর বাজারে তার পথরোধ করে চেয়ারম্যানের উপর হামলা চালায়। এতে সেলিম চেয়ারম্যান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালপুর ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে কদমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সেলিম রেজা মাস্টার জানান, আমার সাথে সমস্যা হলো পিআইওর। অথচ আমাকে লাঞ্ছিত করলো এমপি সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মীরা। যা খুবই হতাশাজনক। আমি এর বিচার চাই।

তবে এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, যারা হামলার সাথে জড়িত তাদের আমি চিনিও না। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার সাথে চেয়ারম্যানের কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বিদায় নিয়ে চলে যান। পথে কী ঘটেছে আমার জানা নাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, পিআইও এবং চেয়ারম্যানের মধ্যে বিবাদের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক বিবাদ মিটিয়ে নিয়মমাফিক কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি। পরবর্তীতে শুনলাম চেয়ারম্যানকে মারধর করা হয়েছে। কে বা কারা মেরেছে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, এ বিষয়ে মামলা হওয়ার পর নাজিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ajker-Comilla

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
চান্দিনা প্রতিদিন ২০১৬-২০১৯

প্রধান সম্পাদক: সাইফুদ্দিন বাপ্পী, নির্বাহী সম্পাদক: সাদেক হোসেন, মোবাইল-০১৬৮১-৯৩৯৭৩৫
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়- চান্দিনা হাইস্কুল মার্কেট (২য় তলা), চান্দিনা থানা রোড, কুমিল্লা।
Email- news.chandinapratidin@gmail.com