চান্দিনায় স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকেই

করোনা মোকাবিলায় কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব

সাদেক হোসেন:
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে কোভিড-১৯ (দ্বিতীয় পর্যায়) এর বিস্তার মোকাবিলায় পরিপত্র জারি করে দেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিপত্রে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি মাস্ক ব্যতীত অফিস, আদালত, শপিং মল, বাজার, সামাজিক-রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য বলা হয়। সেসাথে উল্লিখিত স্থানসমূহে মাস্ক বাধ্যতামূলক করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয় দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের।
সম্ভাব্য করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েব) মোকাবিলায় কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কুমিল্ল জেলার চান্দিনা উপজেলার মানুষ। সামাজিক দূরুত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনসমাগম ঘটিয়ে সভা-সমাবেশ, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধি কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসনের কোনরূপ কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকার কারণে এমনটা ঘটছে বলে অভিমত সচেতন মহলের।

সম্প্রতি উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের একটি ফুটবল খেলার ফাইনাল ম্যাচ ও সদর উপজেলার একটি বার্ষিক মিলাদ-মাহফিলকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি সমালোচনায় আনেন উপজেলার সচেতন নাগরিক মহল। ব্যাপক জনসমাগম সৃষ্টিতে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাকে দায়ী করছেন তারা।

জানা যায়, গত ১৩ নভেম্বর উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ফুটবল খেলার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রায় সহস্রাধিক ফুটবল প্রেমী ওই খেলা দেখতে বিদ্যালয় মাঠে হাজির হন। সামাজিক দূরুত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে বিশাল লোকসমাগমের এই আয়োজন সর্ম্পকে আগ থেকে জানতেন না চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায় প্রশাসন। এদিকে ওই খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আলহাজ্ব মো. জামাল হোসেন। এসময় অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন চান্দিনা থানার ৩ পুলিশ অফিসার।
খেলা দেখতে আসা উৎসুক জনতাদের অনেকেই জানান, ‘স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা থাকুক দূরের কথা এসময় অনুষ্ঠানে আগত প্রধান অতিথির মুখেও কোনরূপ মাস্ক ছিলনা।’

এদিকে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই আগামী ২০ নভেম্বর উপজেলা সদরে এক ইসলামী মহাসম্মেলনের আয়োজন করে উলামায়ে দেওবন্দ ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠন। সম্প্রতি প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া জটিলতায় তারা ভেন্যু পরিবর্তন করেছেন বলেও জানা গেছে। এই মহা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে চান্দিনা উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী দেবিদ্বার, বরুড়া, বুড়িচংসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভক্তদের অংশগ্রহনে বিশাল জনসমাবেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান অনেকে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও জানান তারা।

এ দুইটি ঘটনায় চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ওই খেলার কোন অনুমতি ছিল না। তাছাড়া আমি ওই খেলার বিষয়ে আগ থেকে জানতাম না। খেলার পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। আর উপজেলায় ইসলামী মহাসম্মেলনের কোন অনুমতি নেই। এই করোনাকালীন সময়ে এমন মহাসম্মেলনের কোন সুযোগ নেই।

সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে আগত অনেকে নেতাকর্মীই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ কোচিং সেন্টার খুলে দেওয়ায় সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন অভিভাবক মহল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে গোটা উপজেলার মানুষ- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

প্রসঙ্গত, এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩ শ’ ২৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ শ’২ জন সুস্থ হলেও মৃত্যুবরণ করেন ২১ জন।
সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর উপজেলা সদরের হারং ও চান্দিনায়ারা গ্রামে ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *