চান্দিনায় বড় হওয়া জাকির বিসিএস ক্যাডার | Chandina Protidin

চান্দিনায় বড় হওয়া জাকির বিসিএস ক্যাডার

সাদেক হোসেনঃ প্রথম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ৩য় কুমিল্লার জাকিরস্বপ্ন! সফলতা! শব্দগুলো শুনলে সবারই আলাদা একটি অনুভূতি কাজ করে থাকে। জীবনে সবারই স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারাকেই আমরা সাধারণত সফলতা বলে থাকি। তেমনি এক সফল তরুণ মোঃ জাকির হোসেন। জাকির হোসেন ৩৮ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে বিভিন্ন চাকুরি পরীক্ষায় নিজের মেধার পরিচয় রেখেছেন। যেসকল পরীক্ষায় ভাইভা দিয়েছেন  অধিকাংশ পরীক্ষায় সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষায়ও সফলতার জানান দিয়েছেন কুমিল্লার মেধাবী সন্তান জাকির।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন । পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪১তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী  তীব্র ইচ্ছা ও অধ্যবসায়ের বলে জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সাফল্য দেখিয়েছেন।
জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত রেয়াছত আলী ও মোসা. মমতাজ বেগমের সন্তান। তার বাবা দু বছর আগে মারা যায়, পেশায় ছিলেন কৃষক। মা পেশায় গৃহিনী। ছয় ভাই -বোনের মধ্যে সবার ছোট জাকির। ছোটবেলা থেকেই গ্রামে বড় হয়েছেন তিনি।
২০০৯ সালে  চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১১ সালে চান্দিনা রেদওয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১-১২ সেশনে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালে স্নাতক ও ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে জনতা ব্যাংক এর কসবা শাখার সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত আছেন। এর আগে জাকির বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশন এর চাঁদপুর জেলা শাখায় অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন।
প্রথম বিসিএসে সাফল্যের অনূভুতি প্রকাশ করে জাকির হোসেন বলেন, অনেক দিনের অনেক প্রতিক্ষার ফল পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়,  তবুও বলব আসলে অনেক ভালো লেগেছে। অনেক দিনের পরিশ্রমের ফলাফল এটা। প্রথমে তো অনেকটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বিশেষ করে ফলাফল পাবার আগের  মুহূর্তটা দম বন্ধ হয়ে আসছিল। জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল বলে কথা! ফলাফল পাবার পর মনে হলো যে, আসলেই আমি পেরেছি। আমি পেরেছি আমার লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সফল হতে। সফলত্তোর অনুভূতি প্রকাশের কোন সঠিক ভাষা আমার জানা নেই।
সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা আসলেই  সবাই সাফল্যটাই দেখি কিন্তু এর পিছনে আসলে কতখানি পরিশ্রম থাকে সেটা অনেকেই এড়িয়ে যাই। আমি অনেক ছোট একটা শহর থেকে এসেছি । আমার বাবা -মা দুজনই খুব বেশিদূর পড়াশুনা করতে পারেননি কিন্তু শিক্ষার প্রতি  যে আগ্রহ বা তাদের সন্তাদের মানুষ করার যে প্রচেষ্টা তাদের মধ্যে আমি দেখছি তা আমাকে আমার শিক্ষাজীবনে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা  যুগিয়েছিল।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জাকির বলেন, আমার আজকের এই সফলতার পেছনে আমি দুজন মানুষের কথা ঠিক আলাদা করে বলতে চাই। যারা না থাকলে আজ আমার হয়তো কোন পরিচয়ই থাকতো না। হয়ত বাবার রেখে যাওয়া কৃষি জমিতে চাষাবাদই হতো আমার পেশা। সে দু’জন হচ্ছেন আমার মেজ আপু (পরশমনি) ও জামশেদ ভাই  (মেজ দুলাভাই)। মেজ আপু, চান্দিনাস্থ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ চাকুরিত। জামশেদ ভাই প্রভিটা ফিড কোম্পানিতে মার্কেটিং ম্যানেজার পদে চাকুরি করছেন। এ দু’জন সেই ছোটবেলা থেকেই আমার পড়াশুনার খরচ চালিয়ে আসছেন। স্বল্প বেতনে নিজেদের ও দুই পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেই যখন হিমশিজাকিরম খেয়েছেন সেই সময়টাতেও তারা আমার পড়াশুনার খরচ চালিয়েছেন। আপু ও ভাইয়ার জন্যই আজ নিজেকে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মত অবস্থায় আসতে পেরেছি। এছাড়াও আমার শিক্ষা জীবনের সকল শিক্ষকগণের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। সর্বোপরি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি  যার ইচ্ছা না থাকলে হয়ত কোন কিছুই  সম্ভব হতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ajker-Comilla

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
চান্দিনা প্রতিদিন ২০১৬-২০১৯

প্রধান সম্পাদক: সাইফুদ্দিন বাপ্পী, নির্বাহী সম্পাদক: সাদেক হোসেন, মোবাইল-০১৬৮১-৯৩৯৭৩৫
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়- চান্দিনা হাইস্কুল মার্কেট (২য় তলা), চান্দিনা থানা রোড, কুমিল্লা।
Email- news.chandinapratidin@gmail.com