চান্দিনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা!

সাদেক হোসেন: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৫ম ধাপে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ৩১ মার্চ। আসন্ন ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে চান্দিনা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এক প্রার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক একটি দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন আচরণবিধিমালার বিধি-৫ এর মতে, ‘কোন প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোন রাজনৈতিক দল, অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠাণ প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করিতে পারিবেন না’।
আর এমন আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম মুন্সী’র সমর্থকেরা প্রচারের মাধ্যমে হিসেবে বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে। ফেসবুকে ওই প্রার্থীর প্রত্যাশিত প্রতীক প্রাপ্তির বিষয়টি অগ্রীম জানান দিতে দেখা গেছে তাদের।

বুধবার (১৩ মার্চ) ছিল নির্বাচনে প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রত্যাহারের ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১৪ মার্চ উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের কথা থাকলেও একদিন আগে বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মুন্সীর ছবি সম্বলিত ‘চশমা’ প্রতীকে নির্বাচনী পোস্টারের সফটকপি দিয়ে প্রচারণা শুরু করতে দেখা গেছে তার সমর্থকদের।

এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম মুন্সি জানান, আমি এই বিষয়টি সর্ম্পকে কিছুই জানিনা। কেউ যদি অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজটি করে থাকে তাহলে এটার জন্য তো আমি দায়ী না। যদি এমনটা কেউ করে থাকে তাহলে সেটা তারা অতি উৎসাহী হয়ে করেছে, এটা তাদের ঠিক হয়নি।

প্রতীক বরাদ্দ হয়নি অথচ প্রার্থী নির্দিষ্ট একটি প্রতীক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি কতটা বৈধ কিংবা আচরণ বিধি লঙ্ঘনের শামিল কিনা- এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাসিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, কোন অবস্থাতেই কোন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে নির্দিষ্ট কোন প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অবশ্যই প্রচারণার মাধ্যমে। যদি প্রার্থীর পক্ষে কেউ এমন প্রচারণা চালিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এটি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘণের শামিল। এক্ষেত্রে কোন প্রার্থী যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে তাহলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *