কুমিল্লা শহরে করোনার ১৭টি হটস্পট: অসচেতনতাই বাড়ছে এ ভাইরাস | Chandina Protidin

কুমিল্লা শহরে করোনার ১৭টি হটস্পট: অসচেতনতাই বাড়ছে এ ভাইরাস

নাসরিন হীরা: কুমকুমিল্লা শহরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপটা অনেক দেরিতে হয়েছিল। কিন্তু শুরু হওয়ার পর তা শহরের আনাচে-কানাচে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই শহরে করোনা রোগি শনাক্ত হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছে বেশ কয়েকজন। করোনা উপসর্গ নিয়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লা শহরে করোনার বেশ কয়েকটি হটজোন রয়েছে। সেগুলো হলো- ঝাউতলা, শাকতলা, নবাব বাড়ি চৌমুহনী, কালিয়াজুড়ি, ছোটরা, বিষ্ণপুর, দক্ষিণ চর্থা, পুরাতন মৌলভীপাড়া, জাঙ্গালিয়া, সংরাইশ, চকবাজার, মধ্যম আশ্রাফপুর, হাউজিং এষ্টেট,রাজগঞ্জ রাজবাড়ি কম্পাউন্ড, নানুয়াদিঘীরপাড়, ঢুলিপাড়া প্রমুখ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রমতে, এসব এলাকার লোকজন অবাধে রাস্তায় চলাচল করছে। মানছে না কোন অসামাজিক দূরত্ব। মোড়ে মোড়ে আড্ডাবাজি, অবাধে ঘোরাফেরার জন্য এসব এলাকা করোনার আতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে।

২৪ মে কুমিল্লা শহরে ১১ জন ও সদরে ২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। শহরের নবাব বাড়ি চৌমুহনীতে একজন, ঝাউতলা এলাকায় একটি ভবনের এক পরিবারের তিন সদস্য , ঝাউতলার একে শামসুল হক রোডের একজন, শহরের শাকতলা, , উত্তর কালিয়াজুড়ির কোরের পাড়, ছোটরা, বিষ্ণপুরে, দক্ষিণ চর্থায় একজন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মীর পর তার দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সদর উপজেলার দৌলতপুরে আরো ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

২২ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসক এবং নার্স ও স্টাফসহ ৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। একই দিন কুমিল্লা শহরে ২ জন করোনায় আক্রান্ত হন।

২১ মে কুমিল্লা শহরে ৪ জন ও সদরে ১০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই দিন পুরাতন মৌলভীপাড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মাহাবুব এলাহীর পরিবারের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কুমিল্লা জাঙ্গালিয়া পিডিবি অফিসের কর্মচারি সেলিম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে এই অফিসের আরেক কর্মচারি মোবারক (টমছমব্রিজ বাড়ি) করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। শহরের ঝাউতলার প্রিন্স রোডের তুলি নামক বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা সদর হাসপাতালের কর্মচারি এনায়েতউল্লাহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কুমিল্লা সদর উপজেলার দৌলতপুরের ৭ জন, চাঁনপুরের ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

২০ মে শহরে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯ মে শহরে ৩ জন, সদরে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

রবিবার (১৮ মে) রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নগরীর পুরাতন মৌলভীপাড়া এলাকার সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মাহাবুব এলাহীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শহরে একজন , সদরে ২ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া ১৭ মে রবিবারে আক্রান্তরা হলেন, চকবাজারে একজন ও ২১ নং ওয়ার্ডের মধ্যম আশ্রাফপুরে একজন।

১৬ মে শনিবারে আক্রান্তরা হলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন, হাউজিং এষ্টেটে ২ জন, নেওড়াতে ২ জন আর সদর হাসপাতালের কর্মচারি একজন।

নগরীতে ১৫ মে শুক্রবারে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা হলেন, নগরীর ঝাউতলা এলাকার ঔষধ কোম্পানী অপসোনিনের কার্যালয়ের দুইজন (তাদের দুইজনের বাড়ি ছোটরা ও ঝাউতলা ) ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সচিব । সচিবের বাড়ি সংরাইশ। এর আগে অপসোনিনের এরিয়া ম্যানেজার করোনায় আক্রান্ত হন। ফলে অপসোনিনের ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। অপসোনিনের কার্যালয়টি আগেই লকডাউন করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) কুমিল্লা মহানগরীর চর্থা ও হাউজিং এষ্টেট এলাকায় ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা হলেন, কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এষ্টেট এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয় সংলগ্ন ৮ তলা ভবনের বাসিন্দা জাহিদ আহমেদ। অপরজন হলেন নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার মনু মিয়া ম্যানশন রোডের অবকাশ-২ এর ষষ্ঠ তলার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান। তিনি তিনদিন ধরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন।

এর আগে ৯ মে রাতে নগরীর অশোকতলার প্রফেসরপাড়া এলাকার ডাঃ ফারহানা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে কুমিল্লা সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. এস এম সাইফুল আজম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সার্জারি বিশেষজ্ঞ। চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে পেটের ছিদ্র নিয়ে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্ত নারীর সূত্রে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ রাজবাড়ি কম্পাউন্ডের রওশন মঞ্জিলের আক্রান্ত মনিরের স্ত্রী সন্তানের পর (৮ মে) তার মা রাজিয়া বেগম (৭০) এবং একই বাড়ির আজহা বেগম (৩০) নামের আরো একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবার (৮ মে) নগরীর নানুয়াদিঘীর পাড়ে ২ জন ( একজনের নাম বিকাশ) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে ৭ মে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ বাজার কমিটির সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমেদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন । তাঁর বাড়ি মহানগরীর ঢুলিপাড়ায়।

এছাড়া ৮ মে সদরের পাচঁথুবি ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া গ্রামে নাছিমা (৫৪) নামের একজন নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এ নারীকে আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয় ।

এর আগে ৭ মে সদরের কালিরবাজার ইউনিয়নের জসপুর গ্রামে এক নারী করোনা পজেটিভ হয়েছেন।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র মতে, কুমিল্লার উপজেলা ওয়ারী আক্রান্ত সংখ্যা কুমিল্লা নগরীতে ৫২ জন, সদরে ৩২ জন।

তথ্যসূত্র- আজকের কুমিল্লা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ajker-Comilla

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
চান্দিনা প্রতিদিন ২০১৬-২০১৯

প্রধান সম্পাদক: সাইফুদ্দিন বাপ্পী, নির্বাহী সম্পাদক: সাদেক হোসেন, মোবাইল-০১৬৮১-৯৩৯৭৩৫
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়- চান্দিনা হাইস্কুল মার্কেট (২য় তলা), চান্দিনা থানা রোড, কুমিল্লা।
Email- news.chandinapratidin@gmail.com