কঠোর হচ্ছে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসন; মাস্ক না পরে বের হলে জরিমানা

সাদেক হোসেন:  কুমিল্লার চান্দিনায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তুলনায় সদর এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি। এ পর্যন্ত (৮ জুন) চান্দিনা উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়। আর সুস্থ হয়েছেন ৩৫ জন। সর্বশেষ রবিবার ও সোমবার এ উপজেলায় উত্তরা ব্যাংক চান্দিনা শাখার ৩ কর্মকর্তাসহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় আরো ৯জন।এদিকে উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। দেশব্যাপী লকডাউন চলাকালীন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এ উপজেলাটিকে ‘রেড জোন উপজেলা’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। সে সময় থেকে এ উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশীষ দাস।
এছাড়াও সম্প্রতি তিনি করোনা চান্দিনায় মাস্ক না পরে ঘর হতে বের হওয়া, সামাজিক দূরুত্ব বজায় না রাখলে জরিমানা বিধিতে আরো কঠোর হচ্ছেন। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব রোধে সামাজিক দূরুত্ব ও মাস্ক না পড়লে জরিমানা করার বিষয়টি রবিবার এ উপজেলার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন তিনি।
জানা যায়, গত রবিবার (৭ জুন) দিনব্যাপী চান্দিনা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এসময় বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতরা মুখে মাস্ক না পড়ায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় এবং দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য রাখার অপরাধে ২১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমান আদালত।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্নেহাশীষ দাশ জানান- ‘লক ডাউন শিথিল হওয়ার সাথে সাথে বাজারে আসা অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতরা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা ভুলে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে’।
তিনি আরো জানান, ‘রবিবার অভিযানে ২১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এবং মুখে মাস্ক পড়ার জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে কাজ করছে ভ্রাম্যমান আদালত। নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে’।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লাকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরোপুরি লকডাউনের আওতায় আসছে কুমিল্লা জেলা।
দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন নিয়মে শুরু হয়েছে লকডাউন। আক্রান্তের আধিক্য বিবেচনায় রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়ন হবে স্বাস্থ্যবিধি ও আইনি পদক্ষেপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হচ্ছে ৭৫টি।
সেই তালিকায় কুমিল্লা জেলাকে রেড জোন উল্লেখ করে পুরোপুরি লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫৬ জনে। সোমবার পর্যন্ত মৃত্যু সংখ্যা ৪৩ জনে আছে।
কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জামেরী হাসান জানান, রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য এখনো কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক কোন বার্তা পায় নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই সে বার্তাটি পাওয়া যাবে। বার্তা পেলে জেলার বিভিন্ন এলাকা রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাজ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *